ই-কমার্সের বাজার প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের

digitalsomoy

ই-কমার্স আজকের বাংলাদেশের প্রসারমান অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এখন ই-কমার্সের বাজার প্রায় দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৩ সাল নাগাদ তা তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।  শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)  নারী উদ্যোক্তানির্ভর সংগঠন উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ‘কালারফুল ফেস্ট ২০২১’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশের সবচেয়ে নারীবান্ধব সরকার। দৃঢ় মনোবল নিয়ে করোনা মহামারির মধ্যেও নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তারা লাখ-লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করার মাধ্যমে নিজেদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের পরিবারকে সাহায্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বেশ কয়েকজন নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তা দশ লাখ টাকার অধিক পণ্য বিক্রি করেছেন। এসব নারী উদ্যোক্তারা কখনো মনোবল হারাননি। তারা দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যেও থেমে থাকেননি।  বাসায় থেকে উইয়ের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত কাজ করে গিয়েছেন। কোভিডের এই গভীর সংকটময় সময়ে তারা ই-কমার্সের মাধ্যমে শুধু আত্মনির্ভরই হননি বরং নিজেদের পরিবারকেও সাহায্য করেছেন।
 
ড. মোমেন বলেন, বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা সৃস্টিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অধিক সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা আমাদের অর্থনীতির মূলধারায় যোগ দিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবেন।  
 
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এবং উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের সভাপতি নাসিমা আক্তার নিশা।

১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দুই দিনব্যাপী রাজধানীর পূর্বাচল ক্লাবে এই ফেস্ট অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনব্যাপী এমন আয়োজনে থাকছে উদ্যোক্তা বিষয়ক প্যানেল ডিসকাশন। এসময় উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অতিথিরা উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। এছাড়াও থাকছে উদ্যোক্তাদের প্রায় ৮০টি স্টল। এর মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন করতে পারবেন ও দর্শনার্থীরা দেশীয় পণ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পারবেন।

দেশীয় পণ্য প্রচারে ফেস্টে থাকছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রেতাদের জন্য আলাদা প্যাভিলিয়ন। এছাড়াও দেশের বাইরের বায়াররা জুমের মাধ্যমে মেলায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে উদ্যোক্তারা তাদের নিজেদের পণ্যকে প্রকাশ করতে পারবেন, মূলত এটিই এই ফেস্টের মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও ফেস্টের শেষ দিন শনিবার উদ্যোক্তাদের বিনোদনে রয়েছে কনসার্টের আয়োজন।