করোনাভাইরাস মোকাবেলায় লকডাউনে থাকা জামালপুর পৌরসভার কর্মহীন দরিদ্র মানুষেরা ত্রাণের ট্রাক থামিয়ে যে যার মতো করে চাল-আলুর ব্যাগ ছিনতাই করেছে। ট্রাকটিতে ৬ টন চাল ও ১৮ শ কেজি আলু ছিল। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে বেশ তোলপাড় চলছে।

সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য জামালপুর পৌরসভা থেকে ৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটি কাউন্সিলরের নামে ২০০ জন কর্মহীন মানুষের জন্য ২০০ ব্যাগ চাল ও ২০০ ব্যাগ আলু বরাদ্দ দেওয়া হয়। পৃথক ব্যাগের প্রতিটিতে ১০ কেজি করে চাল ও তিন কেজি করে আলু রয়েছে।

শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় আজ রবিবার সকালে যে ট্রাকটি থেকে চাল-আলুর ব্যাগ কর্মহীন মানুষেরা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে সেই ট্রাকে পৌরসভার ২, ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের বরাদ্দের মোট ৬০০ ব্যাগ চাল ও ৬০০ ব্যাগ আলু ছিল। সেই হিসেবে ট্রাকটিতে ৬ টন চাল ও ১৮ শ কেজি আলু ছিল। ট্রাকটি প্রথমে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশার নামে বরাদ্দের চাল ও আলুর ব্যাগ বানিয়াবাজারে নামিয়ে পরে অন্য দুটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুকুন্দবাড়ি এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানার বাসার সামনের রাস্তায় ট্রাকটি ঘেরাও করে শত শত কর্মহীন মানুষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুকুন্দবাড়ি ছাড়াও এ ওয়ার্ডের কয়েকটি পাড়ামহল্লার শত শত কর্মহীন দরিদ্র মানুষ ত্রাণবাহী ট্রাকটি থামিয়ে ঘিরে ধরে। তারা ট্রাকে উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৃথক ব্যাগে থাকা চাল ও আলুর ব্যাগ নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মহীন মানুষদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কর্মহীন মানুষেরা সেখান থেকে চলে যায়। ততক্ষণে ট্রাকের ত্রাণের শতকরা ৮৫ ভাগই খালি হয়ে যায়। এ সময় সেখানে উৎসুক জনতারও ভিড় জমে যায়।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাক থেকে মুহূর্তের মধ্যে চাল-আলুর ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পর দেড় শ ব্যাগ অবশিষ্ট ছিল। আমরা তিনজন কাউন্সিলর ভাগ করে নিয়েছি। পরে মেয়র মহোদয় এসে জানিয়ে গেছেন যা হবার হয়েছে। আমরা ঘটনাটা দেখছি। এই তিনটি ওয়ার্ডের জন্য পুনরায় চাল-আলু বরাদ্দ দেওয়ার কথাও বলে গেছেন মেয়র।

ত্রাণ খোয়া যাওয়া অন্য দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার আলম ইদু কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাকের চাল-আলুর প্রায় সব ব্যাগই ছিনতাই করে নিয়ে গেছে স্থানীয়রা। চাহিদার তুলনায় একদিকে বরাদ্দ খুবই কম। অন্যদিকে ত্রাণ বিতরণে কোনোরূপ নিরাপত্তা না দেওয়ায় হয়তো আজকে এই ঘটনা ঘটেছে। মেয়র মহোদয় আমাদের পুনরায় ত্রাণ বরাদ্দ দিতে চেয়েছেন।

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানা কালের কণ্ঠকে বলেন, সিংহজানি খাদ্যগুদাম থেকে ত্রাণের চাল নিয়ে যখন উপজেলা পরিষদ থেকে আলুর ব্যাগ ট্রাকে ওঠায় তখনই হয়তো কর্মহীন মানুষেরা ট্রাকটি ফলো করেছে। লকডাউনের কারণে আসলে কর্মহীন মানুষেরা খাদ্য সংকটে পড়ায় অধৈর্য হয়েই হয়তো ট্রাকটি ঘেরাও করে চাল ও আলুর ব্যাগগুলো যে যার মতো নিয়ে গেছে। পুনরায় তিনটি ওয়ার্ডেই ত্রাণ বরাদ্দ দিয়ে শৃঙ্খলার সাথে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করার জন্য আমাদের মেয়রকে বলেছি।

এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণ পর জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি, জেলা প্রসাশনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কবীর উদ্দিন ও সদরের ইউএনও ফরিদা ইয়াছমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ত্রাণ ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল মণি কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনা শুনেই তো এখানে এসেছি। সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলেছি। তাদের জন্য পুনরায় ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

khalednbd
Author: khalednbd

I am Editor of Digital Somoy