দেখুন ছুটি/বন্ধের প্রায় ১ মাস হতে চলছে। নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের (ন্যুনতম ৩০ ভাগের) [দিন আনে দিন খায় মানুষের কথা বলছি না, তাদের জন্য সরকারসহ আরও মহৎ মানুষেরা কিছু করার চেষ্টা করছে] অর্থনৈতিক ভাবে খুব খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছেন। আর ১০/১৫ টা দিন পরে যখন তাঁর মাসিক আয়টাও ঘরে আসবে না, সে দিসেহারা হয়ে যাবে। আমাদের বাংলাদেশর মধ্যবিত্তের অনেক কিছুরই অভাব আছে কিন্তু একটা জিনিসের নাই, তা হল আত্মসম্মান। আর এই আত্মসম্মান তাঁর অহংকার। এই আত্মসম্মানই এখন তাদেরকে আরও অনেক কষ্টে রেখেছে। না অভাব মিটাতে পারছে না চাইতে পারছে।

প্রতিটা পরিবারেই, প্রতিটা সমাজেই (২০-৩০ টা বাড়ী/পরিবার নিয়ে গ্রাম্য বা শহুরে সমাজ ইউনিট ভাবছি) বিত্তবান বা উচ্চ মধ্যবিত্ত আছেন। হিসাব করলে দেখা যাবে ঐ ২০/৩০ পরিবারের মধ্যে যে ৩-৫ জন বিত্তবান বা উচ্চ মধ্যবিত্ত আছেন তাদের অস্থাবর সম্পত্তির ৮-১৫ ভাগ যদি তারা এই দুঃসময়ে বিলিয়ে দেন; ঐ ১৮/২৫ পরিবারের থাকা ও খওয়া এই দুই মৌলিক চাহিদা ন্যুনতম ১ বছরের জন্য মিটে যাবে। আর এটা হলে আমার আপনার নিম্নবিত্ত আর মধ্যবিত্ত আত্মীয় আর প্রতিবেশী পরিবারগুলোকে এই কষ্ট আর অসম্মানের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। আর ১৫ ভাগ অস্থাবর সম্পদ কমে গেলে এই বিত্তবান বা উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের কোন অসুবিধাই হবে না।

বিত্তবান বা উচ্চ মধ্যবিত্ত আপনারা কি এই দুঃসময়ে এমনটি করবেন? যদি করেন বা করছেন, মাসাআল্লাহ; আপনার কাজ আপনি করে যান। আপনাকে বলার কিছু নেই আমার বরং আপনার কাছ থেকে শিখার আছে অনেক।

আর যদি আপনার তেমন মানসিকতা না থাকে তবে আপনাদেরকে কিছু কথা মনে করিয়ে দেই। আমি যেহেতু মুসলিম তাই সেই আলোকেই বলছি।

ধনসম্পদ আপনাকে কে দিয়েছে? বলতে পারেন আপনার আর/বা আপনার পিতৃপুরুষের অনেক পরিশ্রম আর মেধার বিনিময়ে আজ আপনি এখানে। আসলেই? আপনার চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করা দরিদ্র মানুষ কি দেখেন না আসে পাশে? মেধা আপনাকে কে দিয়েছে? আপনি জানেন আমিও জানি এই ধনসম্পদ আপনাকে দিয়েছে আল্লাহ। একবার নিজেকে প্রশ্ন করেছেন আসলে কেন দিয়েছে? উত্তরটা হচ্ছে আল্লাহ আপনাকে ধনসম্পদ দিয়ে পরীক্ষা করতে চায়। সেই পরীক্ষায় পাস করছেন তো? নাকি পৃথিবীর ভোগ বিলাস আর কৃপণতার কাছে বেহেশত বিক্রি করে দিচ্ছেন?

আপনার আত্মীয় ও প্রতিবেশীর খোঁজ রাখা ও তাকে সাধ্যমত সাহায্য করা আপনার দায়িত্ব। করছেন সেই দায়িত্ব পালন? তাদেরকে আপনি না দেখলেও তাদের রিজিক তাদের কাছে পৌঁছে যাবে, নিশ্চিত; কারন রিজিক তো দেন আল্লাহ্‌। কিন্তু আপনার মাধ্যমে যদি যেত, সৌভাগ্যবান থাকতেন আপনি, আল্লাহর পরীক্ষায় পাশ করতেন আপনি। বেহেশতের ভাগীদার হতেন আপনি।

তাই এখনো সময় আছে, ভাবুন, ব্যাংকের বা সিন্দুকের টাকা, মানুষের লোক দেখান সম্মান, নিজ পরিবারের মানুষের চাটুকারিতা, নিজের মিথ্যা আহমিকা- এইগুলা বড়, না মানুষের হৃদয়-নিংড়ানো সত্যিকারের ভালোবাসা, সম্মান আর সর্বোপরি আল্লাহার প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা -এইগুলা বড়?

এতগুলা কথা লিখলাম – কষ্টে। এই নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ গুলোত আমাদেরই পরিবারের অংশ বা প্রতিবেশী। তাহলে এই পরিস্থিতেও কেন তাদেরকে হাত পাতার কথা চিন্তা করতে হবে?! দায়িত্বতো আমাদের। এবং আমাদেরই স্বার্থে – তাদের খুঁজে বের করা, তাদের সম্মান ঠিক রেখে তাদের সাহায্য করা ও সবাইকে সাথে নিয়ে আল্লাহর পছন্দের বান্দা হওয়ার চেষ্টা করা।

তাই দয়া করে আত্মীয় স্বজনের খোঁজ নিন। আপনি অবশ্যই জানেন এই সময়ে আপনার কোন আত্মীয় বিপদে পড়ে যেতে পারে। তাকে সাহায্য করুন, তাঁর সম্মানকে নিজের মনে করে রক্ষা করুন।

প্রতিবেশীর খোঁজ নিন, তাকে সাহায্য করুন। প্রতিবেশীর কথা চিন্তা করে মনে পড়ল আজব এই শহুরে জীবনে আমরা তো একই বিল্ডিংয়ের সবাইকে এখন আর চিনি না। সমস্যা নেই, একটু খোঁজ নিয়ে রাতের আঁধারে দরজার নীচ দিয়ে আপনার সাধ্য মত টাকা দিয়ে আসুন আর নিশ্চিত থাকুন তাঁর প্রয়োজন হলেই শুধু তিনি সেটা নিবেন; না হয় যার দরকার এমন কেউ না কাউকে দিয়ে দিবেন। দুই লাইনের একটা সমবেদনার কথাও দিয়ে আসতে পারেন।

দেখুন এই করোনা আজাব না পরীক্ষা তা শুধু দয়াময় আল্লাহ্‌ই জানে। তবে আমার আপনার জন্য কিন্তু এটি বিশেষ সুযোগ এই পরীক্ষা পাস করে – আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করার। হেলায় এই সুযোগ নষ্ট করবেন না। এই পার্থিব জীবন থেকে আমল ছাড়া আর কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না, নিজের আপন শরীরটাও না। আসুন আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করি।

লেখক: প্রধান নির্বাহী, টেকনোবিডি।

dsadmin
Author: dsadmin