করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে ১৪০ অভিযোগ পেয়েছে র‌্যাব। এর মধ্যে ১৬ জন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, তাদের অন্তত ২১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাহেদ।

এদিকে মোবাইলের মাধ্যমে র‌্যাবের পাওয়া ৩৭টি অভিযোগ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাহেদের কাছে অভিযোগকারীরা চার কোটি ৩০ লাখ টাকা পাবেন। আর র‌্যাব বলছে, তারা মোবাইল, ইমেইলের মাধ্যমে সম্প্রতি সাহেদের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকার প্রতারণা অভিযোগ পেয়েছেন।

জানা গেছে, চুক্তিতে ব্যবসা করা, কোম্পানি খোলা, অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা, বড় বিজনেসের ট্রেড লাইসেন্স করে দেয়ার নাম করে প্রায় ১৬ ব্যবসায়ী তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেকেই তার কাছে টাকা চাইতে এসেছিলেন। কিন্তু, তাদের টাকা দেয়ার বদলে হুমকি দিয়েছে।

কাউকে রিজেন্ট হাসপাতালের একটি কক্ষে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করেছে। অথবা পাওনাদারকে তার গ্যাং বাহিনী দিয়ে এক রুমে নিয়ে টর্চার করেছে। কাউকে ভুয়া চেক দিয়েছে।

১৬ ব্যবসায়ীর মধ্যে ইতিমধ্যে একাধিক ব্যবসায়ী যারা সাহেদের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন তারা পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রতারিত ব্যবসায়ীরা অধিকাংশই থাকেন ঢাকার বাইরে। তারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে সাহেদের হুমকিতে অনেকটা ভীত হয়ে যেতেন। ওইসব ব্যবসায়ীর বাড়ি চট্টগ্রাম, বরগুনা, গাজীপুর, কুমিল্লা, ফেনী, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলায় বলে জানা গেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকালে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, সাহেদ করিমের হাসপাতালে অভিযানের পর তার বিভিন্ন অপকর্ম বেরিয়ে আসে। র‌্যাবের কাছে তার বিরুদ্ধে ৫৭টি মামলার তথ্য আছে।

করোনার এই মহামারির সময় রিজেন্ট হাসপাতালের করোনা টেস্ট না করে ফলাফল দিত। এছাড়া করোনা টেস্টের জন্য চার হাজার করে টাকাও নিতেন। এভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়েছেন। গত ৬ জুলাই উত্তরা ও মিরপুরে রিজেন্ট হাসপাতালে গিয়ে এসব অনিয়ম পাওয়া যায়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন। বুধবার ভারতে পালিয়ে যাবার সময় র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।

khalednbd
Author: khalednbd

I am Editor of Digital Somoy