‘মাস্ক আমার সুরক্ষা সবার’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

digitalsomoy

আসন্ন ঈদ-উল আযহাকে কেন্দ্র করে স্থাপিত কোরবানির পশুর হাটে কোভিড-১৯ বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ‘মাস্ক আমার সুরক্ষা সবার’ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আজ ১৬ জুলাই ২০২১ অনলাইনে আয়োজিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এর মেয়র জনাব মো. আতিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এর মেয়র জনাব মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ-এর প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি, উক্ত ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানের কোন বিকল্প নেই। ডিএনসিসি এবং চসিক এর সহযোগিতায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই ও শক্তি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত দেশব্যাপী এই কার্যক্রমের সাথে রয়েছেন গবেষণা সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইয়েল-বিশ্ববিদ্যালয়, ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশন (আইপিএ) ও ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি); আর্থিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান-সিটি ফাউন্ডেশন ও ফুডপান্ডা; মাস্ক বিতরণে সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রির্সাচ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর ইয়াং বাংলা এবং বিডি ক্লিন। উক্ত কার্যক্রমের আওতায় ডিএনসিসি-এর ৯টি এবং চসিক-এর ২টি গবাদি পশুর হাটে আগামী ১৭-২০ জুলাই ৪ দিনব্যাপী বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করার পাশাপাশি সারাদেশের জনসাধারণকে সঠিকভাবে মাস্ক পরার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করতে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ এবং সরকারের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা নাগরিকদের মধ্যে প্রচার করা হবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় গবাদি পশুর হাটে ৫০০ প্রোমোটারের মাধ্যমে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবস্থা করা হবে এবং প্রায় ৮ লক্ষ মাস্ক বিতরণ করা হবে।

ডিএনসিসি’র মাননীয় মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় হেল্পলাইন সেবা ৩৩৩ এর মাধ্যমে বিভিন্ন জরুরি সেবার পাশাপাশি খাদ্য সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আইসিটি ডিভিশনের সহায়তায় সবার ঢাকা অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে কোনো নাগরিক অভিযোগ করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর সমাধান হবে কী হবেনা সে সাড়া পাবেন। হাসপাতালগুলোতে হাই-ফ্লো-ন্যাজাল ক্যানোলা প্রদানের জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, “করোনার মতো কোরবানিও একটি বাস্তবতা। করোনাকে ম্যানেজ করেই আমাদের চলতে হবে। করোনা ম্যানেজমেন্টের অংশই হলো মাস্ক পরা। আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। আমরা লজ্জা নিবারণের জন্য যেমন পোশাক পরি তেমনি করোনা থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য মাস্ক পরতে হবে।” সিটি করর্পোরেশনের টিকা প্রদান শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সবাইকে টিকা দানের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএনসিসির ৭২ ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে মাস্ক ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী কেনার জন্য এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ‘মাস্ক আমার সুরক্ষা সবার’ ক্যাম্পেইনের জন্য শক্তি ফাউনন্ডেশনকে সিটি কর্পোরেশন থেকে ৫ লক্ষ পিস মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এবার ডিএনসিসির ৮টি কোরবানির গুরুর হাটে এ্ন্টিজেন টেস্টের ব্যবস্থাও থাকবে।”

চট্টগ্রামের কোরবানির হাটগুলোতে মাস্ক পরার সচেতনতা বৃদ্ধিতে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মাননীয় মেয়র মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের ৫টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ হাটগুলোতে মাস্ক ও সেনিটাইজার বিতরণ করা হচ্ছে। মাস্ক ছাড়া যাতে কেউ হাটে ঢুকতে না পারে সেজন্য ইজারাদারদের শর্ত দেওয়া হয়েছে। কোরবানির জন্য একটি পশু কেনার জন্য মাত্র একজনকে হাটে ঢুকতে দেওয়া হবে ও জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি সঠিকভাবে মাস্ক পরার অভ্যাসের উপর গুরুত্বারোপ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি, বলেন, জীবন ও জীবিকা দুটোকেই রক্ষা করে দেশের সকল কার্যক্রম সচল রাখার জন্য এবং পরিবারের সকলকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদেরকে সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পরার অভ্যাস করতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে মাস্ক পরার অভ্যাস তৈরি করতে পারলে আমরা জীবনও রক্ষা করতে পারবো এবং জীবিকাকেও রক্ষা করতে পারবো। আস্তে আস্তে মাস্ক পরার অভ্যাসকে রীতি ও সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। এজন্য সবার জন্য বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা, মাস্ক পরার প্রয়োজন ও পদ্ধতি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলা, মাস্ক পরিধানকে আবশ্যকীয় করা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ দ্বায়িত্বশীল সকলকে মাস্ক পরিধান প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। নির্বাচনী এলাকা নাটোর-৩ আসনের স্থানীয়দের জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য এরই মধ্যে তিন লক্ষ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে এবং ঈদকে কেন্দ্র করে আরও দুই লক্ষ মাস্ক বিতরণ করা হবে বলেও জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।

সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও মাস্ক পরার ক্যাম্পেইনে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী, এমপি, বলেন, দেশের শিক্ষা পরিবেশ চলমান রাখার লক্ষ্যে বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মাস্ক পরা। শিক্ষার্থীদের পর্যায়ে যদি আমরা মাস্ক পরার অভ্যাসটা সৃষ্টি করতে পারি তাহলে আগামীতে যে প্রজন্ম তৈরি হবে তাদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা বাড়বে। অন্যদিকে, দেশের জনগণকে ভ্যাকসিনেশনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত টিকা আমদানি করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের যথেষ্ট পরিমাণে জনগণকে ভ্যাসিনেশনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইপিএ-এর গবেষণা ও পরিমার্জনের পর যৌথভাবে উপস্থাপিত মডেল ‘নরমালাইজ মাস্ক ওয়ারিং মডেল’ (NORM) এর উপর ভিত্তি করে এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিগত ০৪ মাস ধরে বাংলাদেশের ৬০০টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ, মাস্ক ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে তথ্য প্রদান, মাস্ক পরিধানে উৎসাহিত করা এবং বিশ্বস্ত নেতাদের মাধ্যমে প্রচারণা-এ চারটি অনুষঙ্গ এই মডেলে উপস্থাপিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে মাস্ক পরার প্রবণতা ৩ গুণ বেড়ে গেছে এবং প্রচারণা শেষ হয়ে যাওয়ার ১০ সপ্তাহ পরও এটি কার্যকর ছিলো। সিআরআই এর পলিসি ম্যাগাজিন ‘হোয়াইট বোর্ড’ এ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘কোভিড-১৯: রিকভার অ্যান্ড রিইমাজিন’ নিবন্ধে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মাস্ক পরার উপযোগিতা ও বিভিন্ন দিক নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ নর্ম মডেলের উপর ভিত্তি করে গত ১০ থেকে ১৩ মে ২০২১ ‘ডিএনসিসি মাস্ক পরি কর্মসূচি’ এর আওতায় বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি সঠিকভাবে মাস্ক পরিধানের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ও আসন্ন ঈদ-উল-আযহার সময় জনসমাগম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় আরও ব্যাপক আকারে দুই মাসব্যাপী ‘মাস্ক আমার, সুরক্ষা সবার’ ক্যাম্পেইন গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শক্তি ফাউন্ডেশনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জনাব ইমরান আহমেদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও যুক্ত ছিলেন ফুডাপান্ডা বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা জনাব আম্বারিন রেজা, ইয়েল ইউনিভার্সিটি এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জনাব আহমেদ মুশফিক মুবারক, শিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়ার ম্যানেজার মিজ পূরবী মতিন। অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি, চসিক, আইসিটি বিভাগ, এটুআই, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট মিডিয়া ও সহযোগী অন্যান্য সংগঠনের এর ঊর্ধ্বতন কমকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীগণ যুক্ত ছিলেন।