দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্যাশ ইনসেনটিভের অবদান

digitalsomoy

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্যাশ ইনসেনটিভের অবদান অন্যতম। সেবা খাতসহ বর্তমানে ৩৭টি খাতে সরকার ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান করছেন। এটি দেশের জন্য এবং দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বড় সুখবর। ক্যাশ ইনসেনটিভের ফলে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং আইটি শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হতে সক্ষম হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পূর্বে ভাড়া স্পেসে ব্যবসা করতেন। তাঁরা এখন ইনসেনটিভের অর্থ দিয়ে স্পেস ক্রয় করে নিজস্ব জায়গায় ব্যবসা করছেন। এটি অত্যন্ত সুখকর ব্যাপার। তাছাড়া, ব্যবসা সম্প্রসারণ করে রপ্তানিতে আরও বেশি অবদান রাখছেন। এর ফলে দেশের জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষমতা অর্জন করছেন। আশা করা যায় সরকারের কাঙ্খিত উন্নয়নে ক্যাশ ইনসেনটিভ আরো একধাপ সুফল বয়ে আনবে। এক্ষেত্রে,অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসিটিডি, আইসিএবিসহ সংশিস্নষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। দেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্য সংগঠন যেমন- বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)এক্ষেত্রে তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পের সংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। যার বিশদ বিবরণ নিম্নে উদ্বৃত করা হলো- 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধিত সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা খাতের শীর্ষ স্থানীয় জাতীয় বাণিজ্য সংগঠন। ‍শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৬ সালে প্রণীত শিল্পনীতিতে সফটওয়্যার ও আইসিটিকে অগ্রাধিকারভুক্ত শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যে ৭টি খাতকে অগ্রাধিকার শিল্পখাত হিসেবে সরকার চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে কৃষি এবং তৈরি পোশাক শিল্পের পরেই আইসিটি/সফটওয়্যার শিল্পকে উলেস্নখ করা হয়েছে। আইসিটির পরে রয়েছে যথাক্রমে ঔষধ,চামড়া,লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাট ও পাটজাত শিল্প। ১৯৯৭ সালে মাত্র ১৮টি সদস্য প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেসিস প্রতিষ্ঠালাভ করে। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৬ শতাধিক । প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে দুর্বার এবং অদম্য গতিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

তাছাড়া, বর্তমান সরকারের ২০২৪ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে বেসরকারি খাতের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বেসিসের সদস্যভুক্ত ১৬ শতাধিক সফটওয়্যার ও আইটি কোম্পানিসমূহ এক্ষেত্রে মূখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের সরকারি-বেসরকারি মন্ত্রণালয়, দপ্তরে সার্ভিস দিয়ে আসছে। তাছাড়াও  দেশের বাইরে  সরকারের ২০২৫ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও ৩ শতাধিক বেসিস সদস্য প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার ও আইটিইএস সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিবছর ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে।  

উল্লেখ্য যে, সরকার এই শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর হতে এই খাতে ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান করে। এই যাবত ২৩০টি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের বিপরীতে সিংহভাগ আবেদনকারী ক্যাশ ইনসেনটিভ পেয়েছেন। রপ্তানি প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউএসডি । ফলস্বরূপ আশা করা যায়, বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের মর্যাদায় পৌঁছানোর অভিপ্রায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০৪১ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ বাস্তবায়নে রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসিসের অনিন্দ্য ও সুনিপুন অবদান থাকবে চিরন্তন। 

আশা করি, বেসিসের এই অবদান জাতীয় অর্থনীতির ভিতকে আরো মজবুত করবে। সেই সাথে সরকারের আশা আকাঙ্খারও প্রতিফলন ঘটবে। এখনো অধিকাংশ আইটি রপ্তানিকারকদের কানে ক্যাশ ইনসেনটিভের এই সুফলের খবর পৌঁছাইনি। অচিরেই তাদের কাছে এই সুসংবাদটি পৌঁছবে। সেই সাথে তাঁরাও এর সুফল ভোগ করবেন। বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য ধন্যবাদ। 

লেখক : মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া 

ডেপুটি ম্যানেজার, ক্যাশ ইনসেনটিভ বিভাগ, বেসিস।