নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের আহ্বান

digitalsomoy

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর উদ্যোগে গত ২১ আগস্ট ২০২১ তারিখে ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০২১’ উপলক্ষে অনলাইনে ক্যাম্পাস এক্টিভেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বেসিস-এর তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের সহায়তায় শুরু হয়েছে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২১ । যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসার উদ্যোগে আয়োজিত হয় নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ।

এবছর নাসা আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বের ২৫১টি শহরে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। বেসিস বাংলাদেশের ৯টি শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে) ভার্চুয়ালি এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

ক্যাম্পাস এক্টিভেশন অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি জনাব সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারীর এই সময় আমাদের ছেলেমেয়েরা তাদের ক্যাম্পাস জীবনের অভাব অনুভব করছে। আমরা আশাবাদী তারা খুব দ্রুত তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ফিরে পাবে। এবারের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে সারা বিশ্বের সাথে একই সাথে একই সময় অনুষ্ঠিত হবে।বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা যে কোন জায়গা থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এটা সম্ভব হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। বাংলাদেশ থেকে আমাদের সৃজনশীল শিক্ষার্থীরা সফলতার সাথে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ সমাধান করছে এবং উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে নিচ্ছে। আমি আশাবাদী এবছরও আমাদের ছেলে-মেয়েরা পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে।  

বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জনাব ফারহানা এ রহমান বলেন, একটা প্রতিযোগিতা থেকে আমরা নতুন নতুন অনেক বিষয় শিখি; নতুন নতুন অনেক উদ্ভাবন বের হয়ে আসে। আমি বিশেষ করে, আমাদের মেয়েদেরকে এই প্রতিযোগিতায় আরও বেশি করে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানাব। আমাদের দেশের মেয়েরা সব ক্ষেত্রে ভালো করছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমাদের মেয়েরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারে। আমি আশাবাদী, মহাকাশ গবেষণায়ও আমাদের মেয়েরা নেতৃত্ব দেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নাসার নির্দেশনায় প্রত্যেক গ্রুপে মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি টিমের জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট যোগ করবে। আমরা  গঠিত প্রতিটি টিমে অন্তত একজন করে মেয়ে দেখতে চাই। বিদেশে এই প্রতিযোগিতায় হাই স্কুলের ছেলেমেয়েরা অংশগ্রহণ করে, আমরা আশাবাদী আগামীতে আমাদের দেশের হাই স্কুল পর্যায়ের ছেলেমেয়েরাও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে।  

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এ বছর আমাদের  নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করার জন্য চিঠি দিয়েছে। আমি আশাবাদী এ বছর বাংলাদেশ থেকে অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। আমাদের ছাত্রছাত্রীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া, দলগত কর্ম ও সৃজনশীল কাজ বিশ্বের বুকে জায়গা করে নেবে।

ক্যাম্পাস এক্টিভেশন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ জাহিদুর রহমান, সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনাব মোঃ সাফায়েত হোসেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ ইফতেখারুল আলাম ইফাত, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর সিএসই বিভাগের  সহযোগী অধ্যাপক জনাব অভিজিৎ ভৌমিক,  বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-এর  সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব এম এম ফাজলে রাব্বি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আন্নাজিয়াত আলিম রাসেল এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জনাব মোঃ আবু মারজান শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতায় যোগদানের আহ্বান জানান।

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ এর উপদেষ্টা জনাব মাহাদী-উজ-জামান ও জনাব আরিফুল হাসান অপু শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। গতবারের বিজয়ী দল বুয়েটের টিম জেনিথের প্রতিনিধি তার অভিজ্ঞতা নতুন প্রতিযোগীদের সাথে শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বেসিস সচিবালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক ও নাসা স্পেস অ্যাপ্স চ্যালেঞ্জ ২০২১ এর কমিউনিকেশন লিড জনাব মুন মন্ডল রাজীব। সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আগ্রহীগণ http://bsf.basis.org.bd/NASA-Registration-Form লিঙ্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আগামী ২ থেকে ৩ অক্টোবর ২০২১ তারিখে বিশ্বব্যাপী এই প্রতিযোগিতা ভার্চুয়ালি ২৫১ টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে।