‘জাপানি বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য গন্তব্যস্থল বাংলাদেশর আইসিটি সেক্টর’

digitalsomoy

বাংলাদেশের দ্রুতগতির আইটি/আইটিইএস সেক্টর জাপানি আইসিটি উদ্যোক্তা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে প্রস্তুত তা তুলে ধরে বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জনাব ফারহানা এ রহমান বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীরা আসিয়ান দেশগুলোতে বিনিয়োগ করলে জাপানের সরকার থেকে যেভাবে আর্থিক এবং অনার্থিক প্রণোদনা পেয়ে থাকেন, সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে জাপানি আইসিটি উদ্যোক্তারা প্রণোদনা প্রাপ্ত হলে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে জাপানি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সাথে বেসিসের আয়োজিত ওয়েবিনারে "Bangladesh- Japan IT/ITES Industry Fraternity: Tapping the Trade & Investment Opportunities" -এর মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের পরীক্ষিত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালের সফরের মাধ্যমে আরও বেগবান হয়েছিল। তখন থেকে জাপান বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। জাপান এবং বাংলাদেশ যে আইসিটি শিল্পের ভ্রাতৃত্ববোধ তুলে ধরে বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯ -এ জাপান দিবসও পালন করেছে এবং ২০১৫ সাল থেকে জাপান আইটি সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে অংশগ্রহণ করছে।

বাংলাদেশ আইসিটি সেক্টরের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা বোঝার জন্য আইসিটি ডোমেইনের প্রায় ১০০ শীর্ষ জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিরা এই ওয়েবিনারে উপস্থিত ছিলেন। বেসিস জাপান ডেস্ক তালিকাভুক্ত সদস্য, বেসিস সচিবালয় এবং জেট্রো ঢাকা কার্যালয়ের প্রতিনিধিও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ফারহানা এ রহমান আরও জানান যে, আইটি/আইটিইএসের জন্য বিশ্বব্যাপী একটি সক্ষম আউটসোর্সিং গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইমেজ প্রসেসিং, গ্রাহক সহায়তা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস প্রসেসিং ও ম্যানেজমেন্ট আউটসোর্সিং বিপিও, টেলিমেডিসিন, মেডিকেল ট্রান্সক্রিবিং, কাস্টমাইজড ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট। তিনি আরও বলেন, পণ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের মূল শক্তি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ ডেটা ওয়ারহাউজিং এবং বিশ্লেষণ, এডু-টেক, অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটিস, মোবাইল আর্থিক পরিষেবা, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ এবং ওয়েব কাস্টমাইজেশন সম্পর্কিত সমাধান-এ সমৃদ্ধ হচ্ছে।

বেসিসের পরিচালক জনাব রাশাদ কবির বাংলাদেশী আইসিটি কোম্পানিগুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন যারা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা বিশ্লেষণ, ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি), এআর ও ভিআর, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন এবং কাস্টমাইজড সফটওয়্যার ইত্যাদি ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন এবং তিনি প্রয়োজনে বেসিসের সাথে যোগাযোগের জন্য আগ্রহী সকল জাপানি আইসিটি ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানান।

বিজেআইটি প্রতিনিধি ইয়াসুহিরো আকাশি তার উপস্থাপনা দেওয়ার সময় বলেন যে, জাপানি আইটি/আইটিইএস বিনিয়োগকারীদের এবং অফশোর ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের কাছ থেকে বাংলাদেশকে চীন এবং ভারতের পরবর্তী গন্তব্য হিসাবে দেখা যেতে পারে কারণ বাংলাদেশ একই সাথে ইংরেজী এবং জাপানি ভাষার উপর দক্ষ মানবসম্পদ সরবরাহ করে যা ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ল্যাটিন আমেরিকা এবং মিয়ানমারের তুলনায় অনেক বেশি।

জেট্রোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইউজি আন্দো সমাপনী বক্তব্যে বলেন, জেট্রো এবং বেসিস জাপান এবং বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরের সম্পর্ককে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

অংশগ্রহণকারীদের মতামত দেন যে, এই ধরনের ওয়েবিনারগুলি জাপান এবং বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব এবং ভ্রাতৃত্ব বিকশিত করবে যা আগামী বছরগুলিতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতকরণকে সক্ষম করবে।