গণমাধ্যমকে নানা কারণে আত্মসমর্পন করতে হয় : বাংলাদেশ ন্যাপ

digitalsomoy

সমগ্র বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করলেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম আজো পরিপূর্ণ মুক্ত নয় বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে বার বার শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুর কাছে গণমাধ্যমকে অসহায় আত্মসমর্পন করতে হয়েছে। এখনো সেই ধারার বাইরে নয় বাংলাদেশের গণমাধ্যম। শাসকগোষ্ঠী মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বললেও প্রকৃত অর্থে তারাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে পদদলিত করে। শাসকগোষ্ঠী সকল সময়ই নিজেদের স্বার্থে গণমাধ্যমকেই টার্গেট করে।

শুক্রবার (৩ মে) ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন। তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছরে বহুবার গণমাধ্যম শাসকগোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। এমন আক্রমণের শিকার হয়েছে যা সকল কিছুই মুক্ত গণমাধ্যম নীতির পরিপন্থী। সরকারের সমালোচনা করায় এবং বিরোধী সংবাদ পরিবেশনের কারণে বর্তমান সরকারের আমলে টিভি চ্যানেল, বন্ধ হয়েছে, সম্পাদক-পরিচালক কারাবন্দী, জাতীয় সংসদে দারিয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সরকারী দলের সিনিয়র সদস্যদের চরম সমালোচনার শিকার হয়েছে সংবাদপত্র, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা।

ন্যাপ নেতৃদ্বয় বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বর্তমান সরকার। সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে গণতন্ত্র বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে, এমনকি ভবিষ্যতে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্থ হতে পারে বলে আশংকায় রয়েছে দেশবাসী। বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র সংকোচিত হয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যা একটি রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

তারা বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন ইতিহাসের সবচাইতে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নগ্ন থাবায় সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি শৃঙ্খলিত। সকলের মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। গণতন্ত্র না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকে না, তেমনই মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।

নেতৃদ্বয় বলেন, মনে রাখতে হবে গণমাধ্যম যদি জনগণের আস্থায় জায়গায় থাকতে না পারে তাহলে সকল ক্ষেত্রেই বিপর্যয় ঘটতে বাধ্য। গণমাধ্যম দেশ-জনগণ-রাষ্ট্র-জনকল্যাণের কথা বলবে, ন্যায়ের কথা বরভে এটাই প্রত্যাশা করে। জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণ না না জনগণ গণমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য। গণমাধ্যম গণ-মানুষের জন্য। তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা পত্রিকা না পড়ে, টেলিভিশন না দেখে তাহলে মিডিয়ার কিছুইতো আর থাকবে না।