টিম মেম্বারদের সাথে ম্যানেজমেন্টের আচরণ হতে হবে বন্ধুসুলভ

digitalsomoy

মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সদস্যদের ব্যবসায় সফলতায় ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে একটি  প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে বিসিএস। মহামারির সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে কীভাবে, কোন কৌশলে ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়, এসব বিষয়ে সমিতির সবাইকে জানাতে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। 

বুধবার (২১এপ্রিল) বিকেলে  অনলাইনে ‘স্ট্রেটেজি ফর সাস্টেনিবিলিটি হন দ্য কনেটক্সট অব ম্যানেজমেন্ট ৩.০’  শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে যৌথভাবে বিসিএস ও  আইসিটি বিজনেস প্রোমশন কাউন্সিল (আইবিপিসি)। 

বিসিএস যুগ্ম-মহাসচিব মো. মুজাহিদ আল বেরুনী সুজনের সঞ্চালনায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রায় সহস্রাদিক সদস্য এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই) এর নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন। 
 
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর। কর্মশালায় সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকের যে বিষয় ‘স্ট্রেটেজি ফর সাস্টেনিবিলিটি হন দ্য কনেটক্সট অব ম্যানেজমেন্ট ৩.০’এটা অমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুবই প্রয়োজনীয়। ম্যানেজমেন্ট শুধু ব্যবসায় নয়, জীবনের সবক্ষেত্রেই এটা প্রয়োজন হবে। পারিবারিক জীবন বা ব্যবসায়িক জীবন সব জায়গাতেই ম্যানেজমেন্ট একটা বড় ইস্যু। সেই ক্ষেত্রে একটা প্রোপার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কীভাবে আপনার প্রতিষ্ঠান চালাবেন সেই ব্যাপারে আশা করছি রিপন ভাই তার উপস্থাপনার মধ্যে আলোচনা করবেন। আজকের এই প্রশিক্ষণে অনেক বড় বড় আইটি লিজেন্ড ও সফল ব্যবসায়ীরা আছেন। সবার দীর্ঘ দিনের ব্যবসায়ী অভিজ্ঞতা রয়েছে। আশা করছি এসব অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের জীবন অভিজ্ঞতা বিবিএস এর সদস্যদের ব্যবসা পরিচালনায় নতুন কিছু শিক্ষা দেবে।
 
ব্যবসা সফলতায় ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কৌশল বিষয়ে নিয়ে ধারণা দিয়ে  বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিএসডিআই) এর নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন বলেন, সারাবিশ্বে, দেশে পরিবর্তন এসেছে আর পরিবর্তন আসবে। মূল কথা হলো, এই পরিবর্তনের সাথে আমাদেরকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। মানুষকে ম্যানেজ করার চাইতে যদি প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমকে ম্যানেজ করা যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের টেকসইয়ের বিষয়টা দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য টিম বন্ডিংটাকে বেশি শক্ত করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে করে আমরা হ্যাপি লয়াল কাস্টমার তৈরি করতে পারি। হায়ার আরকি ট্রাডিশনাল টিমের উপরে ফোকাস করে নয়, প্রত্যেকে মিলে মিলে-মিশে কাজ করতে হবে। তাহলে টিমের সফলতা দ্রুত আসবে। আর যেকোন পরিবর্তনকে দ্রুত গ্রহণ করতে হবে। ম্যানেজমেন্ট টিম থেকে বস সব কিছু করে দিবে এই কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব এটা ভাবনায় আনতে হবে।

গ্লোবাল ব্র্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান  আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, আইটি সেক্টরে  আমরা দীর্ঘ দিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটা ট্রান্সফরমেশনের দিকে চলে এসেছি। ২০২০ সাল থেকে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটা চেঞ্জ হয়েছে। আর এই পরিবর্তন হয়েছে শুধু করোনা মহামারির কারণে। মহামারির এই সময়ে আমাদের চিন্তা করতে হচ্ছে এই করোনাকালে কীভাবে আমাদের ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিতে হবে বা টিকিয়ে রাখতে হবে। আমাদের ব্যবসায় ভাল করতে হলে আমাদের সবাইকে ভাল থাকতে হলে চিন্তা ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, আগে আমরা ট্রেডিশনাল ব্যবসা করেছি। করোনার কারণে আমাদের ব্যবসাটাকে ডিজিটালাইড করতে হচ্ছে। আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে আনতে হবে আগামী দিনে কীভাবে আমাদের ব্যবসাটাকে পরিচালনা করবো। আর এই ডিজিটালি ব্যবসা পরিচালনার জন্য পরিপূর্ণভাবে ওয়েব বেইজড সব সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে। এখন সব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেলে এমন মহামারীর মধ্যেও সুন্দর ভাবে ব্যবসা পরিচলনা করা যেতে পারে।

স্মার্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের সিস্টেমের ম্যানেজমেন্ট নেই। আগে টিম ওয়ার্ক করা হতো। ফিজিক্যালিভাবে বেশি কাজ করা হতো। এখন কিন্তু সেই অবস্থানে আমরা নেই। এখন ফিজিক্যাল কানেকশনের চেয়ে মেন্টাল কানেকশন বেশি জরুরি। টিমের সবাই মেন্টালি কানেক্টেড কিনা এ জায়গায় আমাদের কাজ করা উচিত। আমাদের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যানেজমেনট সিস্টেমটাকে এমনভাবে ডেভেলপ করতে হবে যে, আমাদের টিম মেম্বার যারা আছে তারা সবাই যাতে মেন্টালি এটাচস্ট হতে পারেন। সবার মধ্যে যেনো পারসোনাল রিলেশনশিপ  তৈরি করতে পারেন সে পরিবেশটা আমরা তৈরি করে দিতে পারি।

পুরানো ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টকে দেখে সাধারণ কর্মচারীরা উঠে দাঁড়িয়ে যেতেন। এমনটা হলে টিম মেম্বার আর লিডারের মধ্যে অনেক দূরত্ব থেকে যায়। আর এ ধরনের সম্পর্ক থাকলে ম্যানেজমেন্ট টিম মেম্বারদের কাছ থেকে ভাল কিছু আউটপুট পাবে না। টিম লিডার আর মেম্বারের সম্পর্ক হতে হবে এমন যাতে দেখে দাঁড়িয়ে না যায়। টিম মেইড হিসেবে ব্নধুসুলভ আচরণ করতে হবে। যেকোন সমস্যায় পড়লে যাতে টিম মেম্বাররা ম্যানেজমেন্টের কাছে আস্থা নিয়ে আসতে পারেন সে সম্পর্কটা তৈরি করতে হবে। তাহলে টিম মেম্বাররাও নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠানে তাদের শ্রম দিবে। তিনি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সদস্যরা আমি মনে করি আইসিটি পরিবারের সদস্য। আমরা সব সময় এক সাথে কাজ করি। আজ আমরা যে প্লাটফর্মটিতে এই প্রশিক্ষণ কর্মলাশালা করছি এটা আইসিটির অবদান। ২০১০ সালে এটার কার্যক্রম যদি প্রধানমন্ত্রী যদি শুরু না করতেন তাহলে আজ এই করোনার সময়ে কল্পনাও করতে পারতাম না। গত একটা বছরে সারাদেশের জাতি কিন্তু শারিরীক দূরত্ব মেনটেইন করে চলেছে। তবে ডিজিটালি সবাই ছির কানেক্টটেড। এর পেছনে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অসাধারণ অবদান রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এটা বুঝতে পেরেছিলেন জাতির জন্য আইসিট হলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যার জন্য তিনি জাতির উন্নয়নে আইসিটিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আর সেই জায়গাতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইসিটি ডিভিশন একটা লিডিং রোল প্লে করেছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির উপদেষ্টা শাহ ফুয়াদ হায়দার বলেন, করোনার এই মহামারির সময়টা কত দিন থাকবে, আগামীতে দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে সেটা আমরা কেউ জানি না। এই অবস্থার মধ্যে আমাদের এই ব্যবসাকে কীভাবে টিকিয়ে রাখবো, পরিচালনা করবে সেটা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে। মহামারি এই অবস্থায় সুষ্ঠু ও সঠিক পরিকল্পনা ও  ম্যানেজমেনট ছাড়া ব্যবসাটা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।