সময়োপযোগি কিছু ডিজিটাল সল্যুশন নিয়ে কাজ করছি

digitalsomoy

এখনকার যুগকে বলা হয় উদ্ভাবনের যুগ, নতুন চিন্তাধারার যুগ। সময়টা এখন ডিজিটাল হওয়ার, নতুনত্বকে বেছে নেয়ার। সবাই এখন গ্রাহককে দিতে চায় নিত্য-নতুন চমক। সবাই চায় তার গ্রাহকদের নতুনত্বের ছোঁয়ায় ধরে রাখতে। কেননা এখনকার প্রতিযোগিতার বাজারে গ্রাহকদের কাছে আছে হাজারও বিকল্প। সময়ের চাহিদার কথা মাথায় রেখে আমরা গ্রাহকদের জন্য তৈরি করেছি সময়োপযোগি কিছু ডিজিটাল সল্যুশন সেবা।

দৈনিক ডিজিটাল সময়ের সাথে আলাপকালে কথাগুলো বলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও এক্সট্রা গিফটিং ইকোসিস্টেমের প্রতিষ্ঠাতা এবং অ্যাপলেকট্রাম সলিউশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম মামুন। আলাপে উঠে এসেছে এক্সট্রা গিফটিং ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন সল্যুশন সেবার নানান দিক। সেইসাথে লোকাল মার্কেটে কোর সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের বর্তমান হালচাল। আলাপের কিছু অংশ ডিজিটাল সময়ের পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো।

ডিজিটাল সময়: এক্সট্রার গিফট, অফার ও লয়াল্টি বিজনেস সল্যুশন সম্পর্কে জানতে চাই।

মঞ্জুরুল আলম মামুন: আমরাই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘গিফট, অফার ও লয়াল্টি বিজনেস সল্যুশন’ নিয়ে এসেছি। এক্সটার মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো সময় পাঠিয়ে দিতে পারবেন ইনস্ট্যান্ট গিফট কার্ড। এক্সট্রার সল্যুশন ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে নিজস্ব ব্র্যান্ডেড ডিজিটাল গিফট কার্ড, যা যেকোনো ব্র্যান্ড বা রিটেইল শপ তার আউটলেটগুলোতে বিক্রি করতে পারবে। সাথে বিক্রি করতে পারবে তাদের ইকমার্স সাইটেও। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্র্যান্ডশপগুলো বার্ষিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সেলস বাড়াতে পারবে খুব সহজেই। এটা এমনভাবে তৈরি করা, যা কিনা যেকোনো ধরনের রিটেইল ব্র্যান্ড যেমন, ফ্যাশন ব্র্যান্ড, সুপারমার্কেট, ইলেট্রনিকস ব্র্যান্ড, রেস্টুরেন্ট ব্র্যান্ড, ফুটওয়্যার, এমনকি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য।

এই সল্যুশনের সাহায্যে তৈরি করা যাবে চমকপ্রদ অফার কিংবা প্রমো কার্ড। প্রতিটি ব্যবসায়ে বিশেষ কিছু গ্রাহক থাকে যাদের দরকার হয় পার্সোনালাইজড অফার। এ ছাড়াও এই অফার কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার প্রতিটি গ্রাহককে বেশি বেশি লেনদেন করতে উৎসাহী করবে।

সেইসাথে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে যেকোন ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহক সন্তুষ্টি ২৫-৫০% পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। এই সল্যুশনটি এমনভাবে তৈরি করা যা কিনা যেকোন ধরনের ব্যাংক যেমন, রিটেইল ব্যাংক, কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইভেট ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ যেকোন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। এক্সট্রা টিম তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে বাজারে গিফট, অফার আর লয়ল্টি ইকোসিস্টেম তৈরি করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছ।

ডিজিটাল সময়:  এক্সট্রার গিফটটা কীভাবে সেবা দেবে?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: দেখুন প্রতিটি কর্পোরেট কিংবা ব্যাংক তার বিশেষ গ্রাহকদের জন্য প্রতিবছর একটি বাজেট করে রাখে গিফিটংয়ের জন্য। এক্সট্রার এই বিজনেস সল্যুশন থাকলে গিফিটংয়ের খরচ আর ঝামেলা কমে যাবে অনেকাংশে। এছাড়া ব্যাংক তাদের ব্যাংকিং অ্যাপেও যুক্ত করতে পারবেন গিফিটং সল্যুশন, যার ফলে তাদের কাস্টমাররা গিফট কার্ড পাঠাতে পারবেন যে কাউকে, এর ফলে ব্যাংকের অ্যাপে ব্যবহার বাড়বে, সঙ্গে লেনদেনও।

ডিজিটাল সময়:  আর লয়াল্টি প্রোগ্রামের কাজ কী হবে?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: লয়াল্টি প্লাটফর্ম কিংবা রিওয়ার্ড পয়েন্টের সঙ্গে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। এক্সট্রার লয়াল্টি প্রোগ্রাম গ্রাহককে বাধ্য করবে বারবার লেনদেন করতে, আর যার দরুন সেলসের চাকা ঘুরবে দ্রুত গতিতে। এর ফলে যেমন নতুন গ্রাহক পাওয়া যাবে, ঠিক তেমনি পুরনো গ্রাহক ধরে রাখতেও এর বিকল্প নেই। এছাড়া যেকোন কোম্পানি তাদের এমপ্লয়ীদের জন্যও নিতে পারেন লয়াল্টি প্রোগ্রাম।  মাস শেষে এমপ্লয়ীরা পয়েন্ট থেকে রিডিম করতে পারবেন গিফট কার্ড। 

ডিজিটাল সময়: এক্সট্রা পার্সোনালাইজড অফার কার্ড সল্যুশনের সুবিধাগুলো কী কী?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: এই সল্যুশনের সুবিধা হলো, এটি আপনাকে প্রতিটি কাস্টমারের জন্য ইউনিক কোড জেনারেট করতে সাহায্য করে, যা ব্যবহার করে কাস্টমাররা লুফে নিতে পারবে বিশেষ ছাড়। লোকেশন, আউটলেট, সময়, মোট বিলের পরিমাণ এবং প্রোডাক্টের ক্যাটাগরি ভেদে আপনি বিভিন্ন কাস্টমারকে এই অফার কার্ডের সুবিধার জন্য অগ্রাধিকার দিতে পারেন।

ডিজিটাল সময়: আপনাদের আরো কোন সল্যুশন আছে কী?

 মঞ্জুরুল আলম মামুন: আমাদের আরো কিছু সল্যুশন সেবা রয়েছে। এগুলো হলো, কোব্র্যান্ডেড গিফট কার্ড, রিফান্ড কার্ড, ক্লোজ ওয়ালেট, গিফট কার্ড রেসেলিং ইত্যাদি। এসব বিষয়ে কেউ বিস্তারিত জানতে চাইলে আমাদেরকে কন্টাক্ট ইনফরমেশন দিলে আমাদের বিজনেস টিম আগ্রহীর সাথে যোগাযোগ করবেন।

ডিজিটাল সময়: এই অফার সল্যুশন ১৫-২৫% সেলস বাড়াবে কীভাবে?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: এই সল্যুশনের মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন রকমের অফার দিয়ে কাস্টমারকে আপনার শপে বার বার আনতে পারবেন। যেমন, কাস্টমারকে দিতে পারেন ৪০% ক্যাশ ব্যাক, যেখান থেকে তারা তাদের পরবর্তী দুই অর্ডারে ২০% করে সেই ক্যাশ ব্যাকের সুবিধা লুফে নিতে পারবে। আরো দিতে পারবেন একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি অফার। আপনার অফার কার্ডে এতসব অফার পেয়ে কাস্টমাররা আপনার অনলাইন/অফলাইন শপ থেকে শপিং করতে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। অফার দেয়া আর এটাকে সুন্দরভাবে ম্যানেজ করাতেই এক্সট্রার সাফল্য। 

ডিজিটাল সময়: এই সল্যুশনের খরচ কেমন পড়বে?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: এক্সট্রার এই ডিজিটাল সার্ভিসের সুবিধা পেতে কত খরচ হতে পারে তা নির্ভর করে সম্পূর্ণ আপনার বিজনেসের ধরণ, প্রকৃতি এবং সাইজের উপর। আপনার প্রয়োজনীয়তার উপর নির্ভর করে দামের সীমা পরিবর্তিত হয়।

ডিজিটাল সময়: আপনি দীর্ঘ সময় ধরে আউটসোর্সিংয়ে ছিলেন। আপনার অভিজ্ঞতা যদি কিছু বলতেন।

মঞ্জুরুল আলম মামুন: হ্যাঁ, আমি  দীর্ঘ সময় ধরে আমি আউটসোর্সিংয়ে ছিলাম। এরপরে আসি লোকাল মার্কেটে। এখানেও কেটে গেল বেশ কিছু বছর। এই সময়গুলোতে আমার নিজের তৈরি প্রোডাক্ট আর ক্লায়েন্টদের সার্ভিস দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রতিটি অভিজ্ঞতা থেকেই দেখছি, যেখানে আউটসোর্সিং মার্কেটে x (এক্স) অ্যামাউন্ট কাজ করে সেখানে ২x অ্যামাউন্ট বিল করতে পারি। আবার লোকাল মার্কেটে x অ্যামাউন্ট কাজে, ১.৫x টাকা টার্গেট করে পরে দেখা যায় ৩x এফোর্ট চলে যায়।  আউটসোর্সিং ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে যেখানে লিখিত কমিটমেন্ট (ওয়ার্ক স্কোপ) কাজ করে, লোকাল মার্কেটে এইটা কোনোভাবেই কাজ করে না। তার মানে দাঁড়াচ্ছে লোকাল মার্কেটে সফটওয়্যার বিক্রি করে লাভ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। মনে হলো, এইটা হয়তো আমার একারই সমস্যা। আমি হয়তো জিনিসটা ম্যানেজ করতে পারছি না। কল করলাম দেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত কলিগকে। বুঝতে পারলাম ঘটনা নাকি এই রকমই, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

একটি ডাটা শেয়ার করি, একটি বড় কোম্পানি, যাদের লোকাল আর আউটসোর্সিং (৩০:৭০) দুই জায়গাতেই কাজ করেন। তার কাছে শুনলাম, তাদের মোটামুটি লোকাল সব প্রজেক্টেই লস। তো আস্তে আস্তে লোকাল অপারেশন বন্ধ করবে চিন্তা করছে।  অন্য একটি বড় কোম্পানি তার একটি বড় প্রোডাক্টে অলরেডি ১০০x খরচ করেছে, যেখানে প্রতিবছর এখন হয়তো ১০x আসে। তার মানে দাঁড়াল, যদি ৩০ কোটি টাকা খরচ করা হয় প্রোডাক্টে, তারপর যদি আমরা আসলেই একটা বেশ ভালো প্রোডাক্ট বানাতে পারি, তাহলে বছরে আমাদের এই প্রোডাক্ট থেকে হয়তো ৩ কোটি আসতে পারে। তার মানে আমার ১০-১২ বছর লেগে যাবে একটা পর্যায়ে যেতে।

ডিজিটাল সময়: তাহলে লোকাল মার্কেটে কোর সফটওয়্যার ব্যবসায়ীদের সবারই কী এমন অবস্থা?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: আসলে বিষয়টা তা না। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে সবারই যে একই অবস্থা হবে তেমনটা না। অবশ্যই অনেকে ভাল অবস্থায় আছেন। কেননা সফটওয়্যার ব্যবসাটা নির্ভর করে একজন ব্যবসায়ীর ডেডিকেশন, কঠোর পরিশ্রম, মেধা, কৌশল ও যোগাযোগ দক্ষতার উপর। যার যত ক্লায়েন্ট থাকে তার ব্যবসাটাও তত ভাল চলে। আমাদের মধ্যে কারো কারো কোন প্রোডাক্টে অনেক ক্লায়েন্ট হয়ে গেছে, তারা শুরুও করেছেন দীর্ঘ বছর হয়, তারা অনেক ভালো আছে। এখন কেউ লোকাল মার্কেটে ব্যবসা করতে চাইলে হয়তো খুবই নিস একটা মার্কেট ও প্রোডাক্ট ঠিক করতে হবে, অনেক টাকা বাজেট (হতে পারে ১০ কোটি কিংবা ৫০) নিয়ে নামতে হবে, আর লম্বা সময় (হতে পারে ৬ বছর কিংবা ১০) অপেক্ষা করতে হবে যেন ক্লায়েন্ট সংখ্যা অনেক বেশি বাড়াতে পারে। 

ডিজিটাল সময়: কেমন সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি দেখতে চান?

মঞ্জুরুল আলম মামুন: আমাদের  আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ভাল কোম্পানি আছে যারা লোকালি বিভিন্ন ধারনের সফটওয়্যার তৈরি করে ভাল অবস্থানে আছে। বিশ্বের অনেক বড় বড় দেশের সাথে ব্যবসা করছে। অনেকে আবার চেষ্টা করছে পরিস্থিতির সাথে যুদ্ধ করে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। আমার দৃষ্টিতে সবাই যার যার অবস্থান থেকে ব্যবসা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখন এই চেষ্টাটা সম্মিলিতভাবে করা গেলে আরো সুন্দর হতো। আমাদের সফটওয়্যার খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ যে  বাণিজ্যিক সংগঠন  বেসিস আছে এখানে এ বিষয়টা নিয়ে আরো কাজ করার সুযোগ আছে। কোম্পানিগুলোকে, বিশেষ করে ছোট কোম্পানগুলোকে মেন্টরিং করতে হবে, যত পারা যায় সবাইকে বিশেষায়িত টেকনোলজি (যেমন ম্যাজেন্টো, নোপকমার্স, এ আই  ইত্যাদি) নিয়ে কাজ করতে হবে, জেনারেল কাজ (যেমন কমন ওয়েব সাইট, মোবাইল অ্যাপ) তো সবই করে। আমি এমন ইন্ডাস্ট্রি চাই যেখানে সবাই প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মিলিতভাবে এক হয়ে, একে অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। এতে ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই ভাল থাকবে, সেই সাথে সরকারও আমাদের দ্বারা লাভবান হবে।