নাজিরপুরে ইটভাটার কারণে হুমকির মুখে পরিবেশ

digitalsomoy

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ২ নং মালিখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটার কারণে  এখন  হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। এই ইটভাটাটি পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জনবসতিপূর্ণ এলাকার ভূমিহীনদের কবুলিয়ত করা জায়গা অবৈধ ভাবে দখল করে গড়ে উঠেছে এই ইটভাটাটি। এখানে ইট তৈরি করা হচ্ছে যাতে করে ভাটার এ বিষাক্ত ধোঁয়া এবং ধুলায় বিনষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র প্রকৃতি ও পরিবেশ। জনস্বাস্থ্য পড়েছে হুমকির মুখে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অমান্য করে এই ভাটা নিয়মিত চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ইটভাটার কারণে বিনষ্ট হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতের ফসল, ভারসম্য হারাচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

কবুলিয়ত নেওয়া জায়গার একাধিক ভূমিহীন মালিক অভিযোগ করেন, ১৯৯১/৯২/৯৩ সনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে মালিখালী ইউনিয়নের ১৬ নং বৈবুনিয়া মৌজায় সরকারি খাস জমি ৯৯ বছরের কবুলিয়ত নিয়ে আমরা মাটি কেটে গাছ লাগিয়ে র্দীঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মো. রুহুল আমীন বাবুল দাড়িয়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড় পূর্বক জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে মেসার্স রনি ব্রিকস প্রাইভেট লি. নামে একটি ইটভাটা গড়ে তোলেন। আমরা কেউই তার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছি না। এলাকাবাসী ও মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রুহুল আমীন বাবুল দাড়িয়া সুনিল গাইনের ৪০ শতাংশ, বিজয় দত্তের ৩৪ শতাংশ, রাজ কুমারী বংশী ও মঞ্জু বালার ৩৭ শতাংশ, গবিন্দ গাইনের ৪২ শতাংশ,ধনলক্ষী বিশ্বাসের ২৯ শতাংশ, গোলাপী চৌধুরীর ৩৫ শতাংশ, অজিত সরকার ও মনোরমা সরকারের ১ একর, অখিল মন্ডলের ৩৫ শতাংশ, সত্য রঞ্জন ও কৌশুল্য রানীর ৩৫ শতাংশ, অনিল মন্ডলের ৪০ শতাংশ, কিরন বিশ্বাস ও বাসন্তী বিশ্বাসের ৪০ শতাংশসহ আরো অনেক ভূমিহীনের কবুলিয়ত কৃত জায়গা দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলেন।

মেসার্স রনি ব্রিকস প্রাইভেট লি. এর স্বত্বাধিকারী মো. রুহুল অমিন বাবুল দাড়িয়ার নিকট অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি জায়গা জোড়পূর্বক দখল করে ইটভাটা গড়ে তুলি নাই। অভিযোগকারীরা প্রত্যেকে আমার নিকট থেকে বি এস রেকর্ড হলে জায়গা দলিল করে দিবে বলে উক্ত জায়গার টাকা গ্রহণ করেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, সরকারি কবুলিয়ত কৃত জায়গা হস্তান্তর যোগ্য নয়। কবুলিয়ত কৃত জায়গা দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ইটভাটার পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি আছে কিনা আমার জানা নেই। সরকারি কবুলিয়ত কৃত ভূমি ক্রয়-বিক্রয় করার কোনো বিধান নেই। কবুলিয়ত কৃত ভূমি দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা হলে অভিযোগ পেলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো.আবু আলী সাজ্জদ হোসেন জানান, ভূমিহীনদের কবুলিয়তকৃত জায়গা দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলা হলে ভুক্তভোগী ভূমিহীনরা অভিযোগ করলে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।

বরিশাল বিভাগের পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া জানান, নাজিরপুরে মেসার্স রনি ব্রিকস প্রাইভেট লিঃ এর পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি আছে তবে হালনাগাদ নবায়ন নেই।