টিকা আনতে সরকারকে সহযোগিতা করতে চায় ফ্যোনা ‎ইনফোটেক

digitalsomoy

ঘাতক কোাভিড-১৯ এর মহামারির কারণে দেশের সব সেক্টরের অবস্থা অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে করোনার সাথে যুদ্ধ করে মানুষও ক্লান্ত। সরকারি উদ্যোগে মানুষ করোনার ভ্যাকসিন প্রথম ডোজ নিলেও লাখ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ করোনার ভ্যাকসিন নিতে পারছে না। চারদিকে মানুষ ভ্যাকসিনের জন্য পথ চেয়ে অপেক্ষা করে বসে আছেন। দেশের এই পরিস্থিতিতে অনেক কোম্পানি বিভিন্নভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে লড়াই করে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদানকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যোনা ইন‌ফো‌টেক লি‌মি‌টেড। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রযুক্তি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার কোভিড-১৯-এর প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হতে আন্তরিক সদ্বিচ্ছা প্রকাশ করেছে তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।

সরকা‌রি আশ্বাস ও সহ‌যো‌গিতা পে‌লে দ্রুত সম‌য়ের ম‌ধ্যে অক্সফোর্ডের অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন সরবরাহ করার প্র‌তিশ্রুতি দি‌য়ে‌ছেন কোম্পা‌নিটির ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক মো. র‌ফিকুল ইসলাম। এর আগে গত ২৮ এ‌প্রিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণাল‌য়ের  ম‌ন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণাল‌য়ের স‌চিব, স্বাস্থ্য অ‌ধিদফতরের মহাপ‌রিচালক ও ঔষধ প্রশাস‌নের মহাপ‌রিচাল‌ক ম‌হোদয়‌কে পত্রের মাধ্যমে বিষয়‌টি জানান তি‌নি।

সম্প্রতি এসব বিষয়ে দৈনিক ডিজিটাল সময়ের সাথে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আলোচনায় উঠে এসেছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন ‘AstraZeneca COVID-19 (Oxford) Vaccine (AZD1222)’ এর দেশে আনার নানান খুটিনাটি বিষয়ে। আলোচনার কিছু চম্বুক অংশ পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো। 

ডিজিটাল সময়: আপনাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব কি? এই প্রস্তাবের আলোকে কবে নাগাদ টিকা আনা সম্ভব?
মো. রফিকুল ইসলাম: সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের উপর শুকরিয়া আদায় করছি যে, এই মুহূর্তে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশকে কোাভিড-১৯ মোকাবেলায় বেশ ভালো অবস্থানে রেখেছেন। যেখানে সরকার তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের সমন্বিত ও সুযোগ্য পদক্ষেপও প্রসংশার দাবিদার। 

আমরা মূলত, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সরকারের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার সুযোগটা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে অত্যন্ত ভালো একটা রিসোর্সকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে সুষ্ঠু সমন্বয়ের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেখানে বাংলাদেশ সরকারের যেকোন সময় এটা কাজে লাগতে পারে। এই মর্মে ১০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন মৌখিকভাবে বুকিং করা আছে যেটি তারা আমাকে জানিয়েছেন। উনাদের দেয়া তথ্য মতে, সব ঠিক থাকলে সরকারের পক্ষ থেকে সর্ব প্রথম ‘Letter of Authorization (LoA) & Letter of Intent (LoI)’ ইস্যু করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের  মধ্যে স্পেশাল অ্যায়ার শিপমেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশে এটি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

ডিজিটাল সময়:  এই ভ্যাকসিনের দাম কত হবে এবং এটির যুক্তিকতা কতটুকু?
মো. রফিকুল ইসলাম : তারা যে মূল্যটা নির্ধারণ করে  দিয়েছেন সেটি পার হিউম্যান ডোজ হলো ২৪.২ ইউএস ডলার। আসলে এই দাম নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেকবার উনাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা করেছি। তবে তারা যেটি জানিয়েছেন সেটি হলো বর্তমান বিশ্ববাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা বাংলাদেশকে বেস্ট প্রাইজ অফার করেছেন, যেখানে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ এই দামে  ভ্যাক্সিন কিনছে। প্রায় ৮০টা দেশ তাদের ‘Letter of Authorization (LoA) & Letter of Intent (LoI)’ ইস্যু করেছেন। আমি মনে করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের উচিত হবে, দেরি না করে অচিরেই এটার বাজার দর ও গুণগতমান যাচাই করে এই টিকার ব্যাপারে Letter of Authorization (LoA) & Letter of Intent (LoI)’  ইস্যু করা যাতে প্রাথমিকভাবে এই অভাবটা পূরণ করা যায়।

AstraZeneca Oxford Vaccine একসা‌থে WHO, SAGE, FDA &  CE সার্টিফিকেট প্রাপ্ত যে‌টি এখনও পর্যন্ত  অন্য কোনো ভ্যাকসিন একসা‌থে তা অর্জন কর‌তে পা‌রেনি। দে‌শের সার্বিক প‌রি‌স্থি‌তি বি‌বেচনায় ও আমাদের সামর্থ্যের কথা চিন্তা ক‌রে প্র‌তি ডোজ ভ্যা‌কসিনের বর্তমান মূল্য ২৪.২ ইউএস ডলার নির্ধারণ করা হ‌লেও বিশ্ববাজা‌রে দাম কম‌লে পরব‌র্তি‌তে এ‌টির দামও কমা‌নোর জন্য মালটা অব‌স্থিত প্র‌তি‌নি‌ধিত্বকা‌রি প্র‌তিষ্ঠান Halocline Private Capital Limited কে চাপ প্র‌য়োগ কর‌তে পা‌রি।

ডিজিটাল সময়:  টিকার গুণগতমান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি কী হবে ?
মো. রফিকুল ইসলাম: গুণগত মান প্রশ্নে তারা আমাকে যেটি জানিয়েছেন যে, World Health Organization (WHO) & Strategic Advisory Group of Experts (SAGE) এর Interim Recommendation অনুযায়ী এই  মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরি ভ্যাকসিন হচ্ছে এই ‘AstraZeneca Oxford Vaccine (AZD1222)’  যেটির কার্যকারিতা ৯৭%  এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই বললেই চলে। এটি FDA এবং CE-এর সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। তারা এটির পাঠানোর সময় একটা বিশেষায়িত Subzero Temperature box এ প্রক্রিয়াজাত করে পাঠাবে যেটি ব্যবহারের আগ পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে।