জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আগামী সপ্তাহ থেকে জুলাই জাতীয় সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতকরণ ও তার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে পুনরায় আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। প্রথম পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে কমিশন, এরপর সেই আলোচনার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় পর্বের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও প্রত্যাশিত স্বাক্ষরিত সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথমে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, এরপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালানো হবে। আশা করা যায়, দ্রুত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই পর্বে আলোচনায় জাতীয় সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। প্রথম পর্বের আলোচনায় ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে ঐকমত্য হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ২০টি সাংবিধানিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টিতে সর্বদলীয় সমর্থন পাওয়া গেছে, বাকিগুলোতে কিছু দলের ভিন্নমত থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে প্রথম পর্বে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে ২৫টি বিষয়ে আলোচনা হয়নি।
বিনা ভিন্নমত গৃহীত প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিয়োগ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধান, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, সংবিধান সংশোধন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কমিশন গঠন এবং নাগরিক মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ।
ভিন্নমতসহ গৃহীত প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে সংবিধান অনুচ্ছেদ ৭০ সংশোধন, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধান, সরকারি কর্ম কমিশন ও অন্যান্য নিয়োগবিষয়ক বিধান, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, রাষ্ট্রপতির নির্বাচনপদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং রাষ্ট্রের মূলনীতি।
গত অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করে, যেগুলো গত ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন প্রদান করে। এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দুই ভাগে ভাগ করে—‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ সুপারিশ এবং ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ, যেগুলো নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কাজ চলছে।
প্রথম পর্বে ৩৩টি দলের সঙ্গে, এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তৃতীয় পর্বে বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে জুলাই জাতীয় সনদের চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে এবং সনদে দলগুলোর স্বাক্ষর গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যবৃন্দ বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

